কৃষিতে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারের কুফল (পাঠ ১২)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - কৃষিশিক্ষা - কৃষি উপকরণ | NCTB BOOK
1.3k
Summary

রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারে কৃষিতে কিছু অসুবিধা হচ্ছে:

  • শস্য ক্ষেতে বালাইনাশক প্রতিরোধের ক্ষমতা অর্জন করে।
  • প্রাকৃতিক শিকারি জীব ও মৃত্তিকার উপকারী অণুজীব ধ্বংস হয়।
  • কীটনাশকের মাত্র ১% কাঙ্ক্ষিত কীটদের কাছে পৌঁছায়।
  • দূষিত পানি ও বাতাসে প্রবাহিত হয়।
  • মৃত্তিকার উর্বরতা হ্রাস করে।
  • জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে।
  • প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্ষতি করে।

কর্মসূচি:

  • শিক্ষক বিভিন্ন পদ্ধতি (যেমন খাদক পোকামাকড়, হরমোন ফাঁদ) দেখাবেন।
  • শিক্ষার্থীদের 'রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারের কুফল' বিষয়ে পোস্টার অঙ্কন করতে বলবেন।
  • শিক্ষার্থীদের ক্ষতিকর পোকাখাদক পাখির তালিকা তৈরি করতে বলবেন।
  • শিক্ষার্থীদের জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক সংগ্রহে উপদেষ্টা দেবেন।

ব্যাপকভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারের কারণে কৃষিতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধা বেশি হয়। কৃষিতে এর অসুবিধা বা ক্ষতিকর দিকগুলো হলো-

১. দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে শস্য ক্ষেতে বালাই বা কীটপতঙ্গ বালাইনাশককে বাধাদানের ক্ষমতা অর্জন করে। ফলে ঐ বালাইনাশক দিয়ে আর নির্দিষ্ট কীট বা বালাইকে ধ্বংস করা যায় না।

২. অধিকাংশ কীটনাশক প্রাকৃতিক শিকারি জীব ও মৃত্তিকার উপকারী অণুজীবগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে।

৩. শস্য ক্ষেতে প্রয়োগকৃত কীটনাশক ও বালাইনাশকের খুব সামান্য অংশ (১% বা এর কাছাকাছি) কাঙ্ক্ষিত কীট বা বালাইয়ের কাছে পৌঁছাতে পারে।

৪. প্রয়োগকৃত রাসায়নিক বালাইনাশকের একটি বড় অংশ বাতাসে, ভূপৃষ্ঠের পানিতে, ভূগর্ভস্থ পানিতে অনুপ্রবেশ করে এবং জীবের খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়ে।

৫. বালাইনাশক মৃত্তিকার গঠন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার মাধ্যমে মৃত্তিকার উর্বরতা হ্রাস করে।

৬. রাসায়নিক বালাইনাশক জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস করে।

৭. রাসায়নিক বালাইনাশক সার্বিকভাবে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে।

কাজ-১: সম্ভব হলে শিক্ষক কীটপতঙ্গ দমনে খাদক পোকামাকড় ব্যবহার, হরমোন ফাঁদ, আলোর ফাঁদ ও রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার ভিডিও/ছবি/পোস্টার নমুনার সাহায্যে দেখাবেন।
কাজ-২: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এককভাবে 'রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারের কুফল' বিষয়ে পোস্টার পেপার অঙ্কন করতে বলবেন অথবা লিখতে বলবেন।

অথবা

কাজ-১: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অপকারী বা ক্ষতিকর পোকাখাদক পাখি ও পোকার নামের একটি তালিকা তৈরি করতে বলবেন। এ কাজটি শিক্ষক দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করবেন।
কাজ-২: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে বিভক্ত করে জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক সংগ্রহ করে জমা দিতে বলবেন।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...